শিয়া
উত্তরাধিকার আইন
আমাদের দেশে শিয়া এবং সুন্নী
উভয় মাযহাবের লোক রয়েছে ৷ এদের উত্তরাধিকারের সূত্র বা ণীতির সাথে সুন্নী
উত্তরাধিকারের ণীতির সাথে পাথক্য আছে ৷ উভয় মাযহাবের উত্তরাধিকার সম্পকিত
বিধান কোরআন থেকে উদ্ভুত হলেও ব্যাখামূলক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শিয়া
উত্তরাধিকার আইনে অংশ বন্টনের ক্ষেত্রে কতিপয় মৌলিক পাথক্য পরিলক্ষিত হয় ৷
শিয়া উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা দুই শ্রেণীতে বিভক্ত; যথা - (১)
স্বগোত্রীয় উত্তরাধিকারী, অর্থাত্ রক্ত সর্ম্পকের উত্তরাধিকারী এবং (২)
বৈবাহিক সম্পক হতে আগত উত্তরাধিকারীগণ, অর্থাত্ স্বামী ও স্ত্রীর মাধ্যমে
আগত উত্তরাধিকারীগণ ৷
অ) রক্তের
সর্ম্পক যুক্ত তিন শ্রেণীর উত্তরাধিকারী :
রক্তের সম্পকীয়
উত্তরাধিকারীরা তিন শ্রেণীতে বিভক্ত ৷প্রত্যেক শ্রেণী আবার দুটি শাখায়
বিভক্ত ৷ নীচে এই তিন শ্রেণী ও তাদের শাখার তালিকা প্রদান করা হলো:
১৷ ক) পিতা - মাতা;
খ)সন্তান -সন্ততি ও
তাদের বংশধরগণ, যতই নিম্নগামী হোক ৷
২৷ ক) দাদা -দাদী, নানা- নানী
ও তাদের পূবপুরুষগণ;
খ) ভাই ও বোন এবং তাদের
বংশধরগণ, যতই নিম্নগামী হোক ৷
৩৷ ক) মৃতের পিতৃকুল থেকে
উদ্ভুত চাচা ও ফুফু এবং
খ) মৃতের মাতৃকুল থেকে উদ্ভুত মামা, খালারা এবং তার
পিতামাতা দাদা-দাদী যতই উধ্বের হোক তাদের বংশধরগন, যতই নীচের হোক ৷
উপরোক্ত তিন শ্রেণীর মধ্যে
প্রথম শ্রেণীর ওয়ারিশ বতমান থাকলে দ্বিতীয় শ্রেণীর ওয়ারিশ উত্তরাধিকার হতে
বাদ পড়ে এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর ওয়ারিশ বতমান থাকলে তৃতীয় শ্রেণীর
উত্তরাধিকার হতে বাদ পড়ে তবে প্রত্যেক শ্রেণীর অধীন অন্তভুক্ত
উত্তরাধিকারীরা অধিকতর নিকটবতীরা অধিকতর দূরবতীদেরকে বঞ্চিত করে ৷ {বেঈলী, ২য়, ২৭৬, ২৮০, ২৮৫}
আ) বৈবাহিক
সম্পকের্র উত্তরাধিকারী:
স্বামী ও
স্ত্রী - কখনও
উত্তরাধিকারী থেকে বঞ্চিত হয়না ৷ মৃত ব্যক্তির রক্তের সম্পকের কাছে
নিকট-আত্নীয়দের সঙ্গে স্বামী বা স্ত্রীও উত্তরাধিকার লাভ
করে ৷ স্বামী ক্ষেত্রবিশেষে ১/৪ বা ১/২ এবং স্ত্রী ১/৮ বা ১/৪ অংশ পেয়ে
থাকে ।
অংশ বন্টনের
নীতি ও প্রক্রিয়া:
কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে
অংশীদার হিসেবে যে অংশ পেত তার অধঃস্তন পুরুষরাও অংশীদার হিসেবে উক্ত অংশ
গ্রহণ করতো এবং কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে যা গ্রহণ
করতো তার অধঃস্তন পুরুষরাও অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে তা গ্রহণ করবে ৷
একজন শিয়া মুসলমান এক আপন
ভাইয়ের কন্যা এবং এক বৈপিত্রেয় (যেখানে পিতা দুইজন কিন্তু মাতা একজন
ভাইয়ের পুত্র রেখে মারা গেল, যেমন:
|
মৃত ব্যক্তি |
|
আপন ভাই |
আপন ভাই
|
|
কন্যা
(৫/৬) |
পুত্র (১/৬) |
বৈপিত্রেয় ভাই
জীবিত থাকলে অংশীদার হিসেবে পবিত্র কোরআনে নিধারিত অংশই পেত ,
অথাত্ ১/৬ অংশ আপন ভাই জীবিত থাকলে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ৫/৬ অংশ সম্পত্তি গ্রহণ
করতো ৷ বৈপিত্রেয় ভাইয়ের পুত্র একজন অংশীদারের বংশধর হওয়ায় একজন অংশীদার
হিসেবে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে এবং পিতার
প্রতিনিধিত্ব প্রদানের মাধ্যমে সে তার পিতার অংশ ,অথাত্
১/৬ অংশ লাভ করবে
৷
আপন ভাইয়ের
কন্যা একজন অবশিষ্টাংশভোগীর সন্তান হওয়াতে সে ও একজন অবশিষ্টাংশভোগী
হিসেবে সম্পত্তির অংশ গ্রহণ করবে এবং পিতার প্রাপ্য ৫/৬ অংশ পাবে ৷ সুন্নী
আইন অনুযায়ী আপন ভাইয়ের কন্যা ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের পুত্র উভয়ই তৃতীয়
শ্রেণীর দূরবতী আত্নীয় ৷ ইমাম আবু মুহণ্মদের মত অনুযায়ী শিয়া আইনে
প্রথমোক্ত ব্যক্তি ৫/৬ অংশ এবং শেষোক্ত ব্যক্তি ১/৬ অংশ পাবে ৷
উত্তরাধিকারীদের শ্রেণী বিভাগের প্রেক্ষিতে উত্তরাধিকারের সম্পত্তি
বন্টনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ক্রমনীতি অনুসরণ করা হয়:
উত্তরাধিকারীদের
শ্রেণী বিভাগের প্রেক্ষিতে সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে ক্রমনীতি অনুসারে
করা হয় ৷ তাতে
(ক)
প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারী থাকলে পরবতী দুটি শ্রেণী বঞ্চিত হয় ৷
(খ)
দ্বিতীয় শ্রেণীর উত্তরাধিকারী তৃতীয় শ্রেণীকে বঞ্চিত করে ৷
(গ)
কিন্তু তৃতীয় শ্রেণীর এক ভাগ অন্য শ্রেণীকে বঞ্চিত করেনা ৷
উদাহরণ ১:
ক একজন শিয়া
মুসলমান ৷কন্যার পুত্র ,পিতার মাতা ও ৩ জন আপন ভাই রেখে মারা গেল ৷
শিয়া সুন্নী
১৷
কন্যার পুত্র সম্পূণ অংশ ১৷ কন্যার পুত্র =
বঞ্চিত
২ ৷ পিতার মাতা
- বাদ (২য় শ্রেণী) ২ ৷ পিতার মাতা = ১/৬
৩ ৷ আপন ভাই
- বাদ ( ঐ ) ৩ ৷ আপন ভাই = ৫/৬
..................................
১.
উদাহরণ ২:
খ একজন শিয়া
মুসলিম ৷ তিনি মৃত্যুর সময় নিম্নোক্ত উত্তরাধিকারী রেখে গেল
:
পিতা
............................ ১ম শ্রেণীভুক্ত
মাতা
..........................
১ম শ্রেণীভুক্ত
১ কন্যা
........................ ১ম শ্রেণীভুক্ত
১ পুত্রের কন্যা
............... ১ম শ্রেণীভুক্ত
১ পুত্রের
পুত্র .......... বহিস্কৃত - কন্যা দ্বারা
এক ভাই
........... ২য় শ্রেণীভুক্ত
১ চাচা
................ ৩য় শ্রেণীভুক্ত
অতএব
উত্তরাধিকারী ব্যক্তি হলেন - পিতা, মাতা ও কন্যা
।