|
উত্তরাধিকারীদের
ক্রমতালিকা
উত্তরাধিকারীদের
অধিকারের
স্বাভাবিকভাবে পুত্রই
পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র একাধিক হলে তারা সকলে মিলে পিতার সম্পত্তিতে
উত্তরাধিকার পায়। যে পুত্র মৃত তার পুত্র
অর্থাত্ পৌত্র উত্তরাধিকার পায়। পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র যেহেতু সমভাবে পিন্ড দেবার অধিকারী তাই তারা উত্তরাধিকারী
হয়। কিন্তু পুত্র জীবিত থাকলে তার পুত্র
অর্থাত্ পুত্র পিন্ড দিতে পারেনা। এবং সে
কারণে পুত্রের জীবমানে পৌত্র উত্তরাধিকার পায়না। প্রপৌত্রের ক্ষেত্রে ও একই কথা।
১৯৩৭ সনে সম্পত্তির উপর
হিন্দু নারীর অধিকার আইন প্রবর্তিত হবার পর মৃতের বিধবা, পুত্রের বিধবা এবং পৌত্রের
বিধবা উত্তরাধিকার পায়, এভাবে প্রথম যে ছয়জন মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধিকার পায়, তারা
হচ্ছে:
১. পুত্র
২. পৌত্র
অর্থাত্ নাতি
৩. প্রপৌত্র অথাত্
নাতির পুত্র
৪. মৃতের বিধবা স্ত্রী
৫. মৃতের মৃত্যুর
পূর্বে মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী
[যিনি সম্পত্তি রেখে মারা গেছেন তার
আগে মৃত তার পুত্রের বিধবা স্ত্রী]
৬. মৃতের পুর্বে মৃত পুত্রের পুর্বে মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী [যিনি সম্পত্তি রেখে
মারা গেছেন
তার আগে তার মৃত পুত্রের এবং এর আগে ও মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী]
পৌত্র ও প্রপৌত্রের
ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের মতবাদ প্রচলিত। পুত্র জীবিত না থাকলে তার পুত্র অথাত্
প্রতিনিধিত্ব করে পুত্রের পুত্র।
অথাত্ মৃতের পৌত্র বেঁচে না থাকলে তার পুত্র
অথাত্মৃতের প্রপৌত্র তার প্রতিনিধিত্ব করে। এরা অংশ পিছু উত্তরাধিকার পায়।
বিধবাদের কথা বলা যায় যে,
আগে পুত্র, পৌত্র প্রভৃতি থাকলে বিধবা আর কোন উত্তরাধিকার পেত না।
বর্তমানে অর্থাত্ ১৯৩৭ সনের
সম্পত্তির উপর হিন্দু নারীর অধিকার আইন পাস হবার পর বিধবাবৃন্দ জীবন স্বত্ব
উত্তরাধিকার পায়। এ আইন পাস হবার পর, বিধবা একের অধিক হলে সবাই একত্রে এক পুত্রের
সমান অংশ জীবনসূত্র পায়। পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র কেউ না থাকলে মৃত স্বামীর সমস্ত
সম্পত্তি তার বিধবা জীবন স্বত্বে পায়। বৈধ প্রয়োজনে বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করতে
পারে।
মৃতের বিধবা যেভাবে
সম্পত্তি পায় মৃতের পুত্রের বিধবা বা তার পৌত্রের বিধবা বা প্রপৌত্রের বিধবা
একইভাবে সম্পত্তি পায়। একটি উদাহরণ দেয়া গেল:
'ক' নামক
একজন হিন্দু তার বিধবা স্ত্রী এবং পূর্বে মৃত পুত্রের এক বিধবা রেখে মারা যান৷ তার সম্পত্তি পাঁচ ভাগ হবে
এবং ঐ পাঁচ জন সমান অংশে তা পাবে। 'ক 'তিন
পুত্র, তার বিধবা স্ত্রী এবং পূর্বে মৃত পুত্রের এক পুত্র এবং তার মৃত পুত্রের
বিধবা রেখে মারা যান৷
এখানে ক এর ত্যক্ত সম্পত্তি পাঁচ ভাগ হবে। প্রত্যেক পুত্র এবং তার ক এর বিধবা এই ৪
জনের
প্রত্যেকে ১/৫ অংশ পাবে। অবশিষ্ট ১/৫ অংশ তার মৃত পুত্রের পুত্র ও বিধবার মধ্যে
সমানভাবে অর্থাত্ এরা এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকে ১/১০ অংশ করে পাবে।
উপরে যে
ছয়জনের কথা বলা হলো
অথাত্ পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা, মৃত পুত্রের বিধবা এবং
মৃত পৌত্রের বিধবা, এরা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে গন্য। এরা বেঁচে থাকলে আর
কেউ মৃতের সম্পত্তি পায় না।
৭. কন্যার স্থান :
উপরের ছয়জন না থাকলে
কন্যা পিতার সম্পত্তি পায়। সে এ কারণে সম্পত্তি পায় যে তার মৃত পিতাকে পিন্ড দেবার
জন্য সে পুত্র প্রসব করতে সক্ষম। জীমুতবাহন স্পষ্টভাবে ঘোষনা করেছেন যে সে কন্যা
উত্তরাধিকার পাবে না যে পুত্রবতী নয় বা পুত্র
জন্ম দিবার শক্তি যার নাই বা যে
বন্ধ্যা এবং যে শুধু কন্যাবতী। তবে যে কন্যা কোন পুরুষ শিশুকে
পুত্ররূপে দত্তক
নেবার জন্য সম্ভাবনা পূর্ণ, সে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হয় না। সুতরাং সকল কন্যা
পিতার ত্যক্ত স্বত্বে সম্পত্তি পায় না। প্রথমে আসে অবিবাহিতা কন্যা। কন্যা
অবিবাহিতা থাকলে, সে একাই পিতৃত্যক্ত সকল সম্পত্তি সমুদয়ভাবে পায়; ঐরকম কেউ না
থাকলে পায় পুত্রবতী কন্যা। পুত্রবতী কন্যা, বন্ধ্যা বা পুত্রহীনা কন্যাক বঞ্চিত করে৷ অবিবাহিত বা পুত্রবতী কন্যা না থাকলে এবং সন্তানহীনা বিধবা কন্যা
থাকলে পিতৃব্য পুত্র
অথাত্ চাচার ছেলে সম্পত্তি পাবে। বর্তমানকালে প্রশ্ন উঠছে, হিন্দু কন্যার অধিকার থাকা উচিত কিনা তার পিতৃত্যক্ত সম্পত্তির উপর, তার পিতার
পুত্রের সাথে
অথাত্ তার ভাই এর সাথে। বাংলাদেশের সংবিধানে নারী পুরুষের সমতার
অধিকার বিধৃত। এ সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের ভিত্তিতে নারী পুরুষের সমতার কন্যার দাবি
উত্থান হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে কতিপয় হিন্দু পন্ডিত বলেন: কন্যা সম্পর্কে হিন্দু আইনের
যে মহতি ধারণা বিদ্যমান তা প্রথমে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।বিবাহের সাথে সাথেই কন্যা তার
স্বামীর শ্বশুরের পরিবারে চলে যায়। স্বামী শ্বশুরের পরিবারের সে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
যতদিন তার বিয়ে হয় নি ততদিন তার পিতা তাকে পালন করেছে, বিবাহের পর যে সম্পত্তি তার
ভাইয়েরা ভোগ করেছে তার উপর সে লোভ রাখবেনা। দাবির অধিকার থাকলে কখনো লোভ চাড়া দিয়ে
উঠতে পারে। ফলে ভাইদের সাথে তার সম্পর্কের মধুরতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্রাচীনকালের
মুনি ঋষিগণ পারিবারিক বন্ধনকে মহাপবিত্র মনে করতেন, যে নীতিতে সে বন্ধন অটুট
থাকে সেই নীতির নিদেশ তারা দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে
হিন্দু নারীর অধিকার এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই নারীর অধিকার সংরক্ষণে তার পিতার সম্পত্তিতে
ভাগ পাওয়াটা জরুরী হওয়ায় প্রাচীন কালের মুনি ঋষিদের মতানুযায়ী বন্ধনকে অটুট রেখে
কন্যা পুত্রের পাশাপাশি তার পিতার সম্পত্তির অংশীদার হতে পারে।
৮. কন্যার পুত্র বা
দৌহিত্র বা নাতি
:
জীমুতবাহন বলেন কন্যা
পিতার ত্যক্ত সম্পত্তিতে এ কারণে উত্তরাধিকার পায় যে সে এমন একজনের মাতা হতে পারে
যে তার মাতামহের পিন্ড দান করতে পারে, ঠিক সে কারণে কন্যার পুত্র
অথাত্ দৌহিত্রমৃতের
পিতা এবং অন্যান্য আত্নীয় জীবিত থাকা সত্বেও মাতামহের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার
পায়। তবে
দৌহিত্রের পুত্র
উত্তরাধিকার পায় না কারণ সে পিন্ড দেবার অধিকারী নয়।
[Next page] |