|
আদিবাসীদের
উত্তরাধিকার
সম্পর্কিত বিস্তারিত বর্ণনা:
১.গারো-
গারো সমাজ প্রধানত মাতৃসূত্রীয় ধারায় মাতার
বংশ মর্যাদা অনুসারে তাদের সন্তানেরাও পরিচিত হয়। স্বাভাবিকভাবে কন্যা মায়ের
সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হিসাবে গন্য হয়,পুত্র নয়। বংশ পরম্পরায় তাহারা মাতৃসূত্রীয়
রীতিতে একে অন্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত। মাতৃপ্রধান পরিবার প্রথা বিদ্যমান থাকায়
পরিবারের সামগ্রিক ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে স্ত্রীর হাতে। তাদের বংশধারায় সম্পত্তি
প্রাপ্তি থেকে আরম্ভ করে সবকিছু মাতার কাছ হইতে মেয়েতে বতার্য়।পরিবারের সম্পত্তির
মালিক স্ত্রী সাব্যস্ত হইলেও স্বামী উহার যাবতীয় ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত থাকে।সঙ্গত
কারণে যে কোন জরুরী ব্যাপারে গারো সমাজে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই যৌথভাবে
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এদের সমাজ কাঠামোতে ছোট মেয়ে সর্বাপেক্ষা আদরণীয়া।
পরিণত বয়সে তাহাকে সাধারণত আপন মামাতো ভাইয়ের সাথে বিবাহ দেওয়ার রীতি প্রচলিত।
২.ম্রো বা মুরং-
মুরং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। তাহাদের সমাজে
মেয়েদের প্রাধান্যও
রয়েছে।কাজেই যৌথ পরিবারই তাহাদের পারিবারিক রূপ বিশেষ। পিতার
দিক থেকে ছেলেরাই সম্পত্তির মালিকানা ভোগ করে। তবে কনিষ্ঠ ছেলে সম্পত্তির অধের্ক
মালিকানা পেয়ে থাকে।মুরং সমাজে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী স্বামী কোনো সন্তান না
রেখে মারা গেলে স্ত্রী তাহার যাবতীয় জিনিসপত্র ও অলংকারাদি নিয়া পিতৃগৃহে ফিরে আসে। ফলে
মেয়ের পিতা ছেলের পিতাকে ঐসব জিনিসের মোট মূল্য ও যৌতুকের টাকা ফিরিয়ে দেয়।সন্তান
থাকলে মেয়েরা মা-বাবার সংসারে আসতেও পারে; আবার নাও আসতে পারে।মা-বাবার সংসারে
ফিরে না আসলে অর্থ ফিরিয়ে দেবার প্রশ্ন উঠে না।
৩.চাকমা-
চাকমা পরিবার
পিতৃতান্ত্রিক। তাহাদের পারিবারিক ক্ষমতা স্বামীর হাতে বা বয়স্ক পুরুষের হাতে ন্যস্ত থাকে।
পিতার বংশ পরিচয়ে ছেলে-মেয়েদের পরিচয় এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারিত্ব নিণীর্ত হয়।
বিয়ের পরে নারী স্বামীর গোষ্ঠীর অন্তভূর্ক্ত হয়ে যায়। চাকমা সমাজে পিতার মৃত্যুর
পর
পুত্র সন্তানেরা সম্পত্তিতে সমান অংশে মালিকানা
পেয়ে থাকে। কিন্তু কন্যা
সন্তানেরা পিতার সম্পত্তির কোন অংশ পায় না।তবে তাহারা মেয়েদেরকে কোন অবহেলা করে না;
পুত্র সন্তান না থাকিলে সেই ক্ষেত্রে মেয়েরা পিতার সম্পত্তির মালিকানা
পেয়ে থাকে। চাকমা সমাজে বহু বিবাহ ও বিধবা বিবাহ
সম্পাদন অনুমোদিত
রয়েছে। তবে একজন স্বামী মোট কয়টি মহিলাকে বিয়ে
করতে পারবে
তাহার কোন সংখ্যা উল্লেখ নাই। প্যারালাল কাজিন
বিয়েও সীমিত অর্থে প্রচলিত
রয়েছে ঠিক,তবে আপন চাচাতো ভাই- বোনের মধ্যে বিয়ে স্থাপনে সামাজিকভাবে বাধা নিষেধ
রয়েছে।
৪. চাক-
চাক সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। পরিবারের
কতৃর্ত্ব পিতার এবং সন্তান জন্মের পর পিতার গোত্রের অন্তভূর্ক্ত
হয়ে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। উত্তরাধিকারীত্ব প্রসঙ্গে সন্তান হওয়ার পর
মেয়েরা আনুষ্ঠানিকভাবে বাবার বাড়ীতে যায়। এই সময় সে বাবা-মার কাছে তাহার সম্পত্তির
অংশ পাওয়ার দাবি জানায়। তখন সামাজিক রীতি অনুযায়ী বাবা-মা তাকে
তার ন্যায্য অংশ
দিয়ে থাকে। সম্পত্তির অংশ হিসাবে সে টাকা-পয়সা, গরু-মহিষ,অলংকার প্রভৃতি পায়। তবে
জায়গা-জমির কোন ভাগ উত্তরাধিকার সূত্রে মেয়ে কখনো পায় না। জীবিত থাকা অবস্থায় বাবা-মা
মেয়েকে ইচ্ছা
করলে জমির ভাগ দিতে পারে।
৫.লুসাই-
লুসাইদের সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।
এইজন্য পিতার উত্তরাধিকার সূত্রে ছেলেরা সম্পত্তির মালিক হয়ে থাকে। কিন্তু
লুসাইদের মধ্যে একটি নিয়ম প্রচলিত রয়েছে যে, সকলের ছোট ছেলেই সম্পত্তির
উত্তরাধিকারী হয়। বড় ভাইয়েরা সাধারণত ছোট ভাইয়ের কৃপার পাত্র হয়ে দাঁড়ায়। কেউ যদি
অপুত্রক থাকে তখন নিদির্ষ্ট দিনে 'সাফুম' উত্সব পালন করে সম্পত্তির মালিকানার
বিষয়টি নিকটস্থ কোন আত্মীয়ের হাতে সমপর্ণ করে থাকে। বিধবা
মায়ের ছেলেরা তাদের
মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে
হওয়ার পর সম্পত্তির মালিক হওয়ার অধিকার পায়।
৬. মারমা-
মার্মা সমাজে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা
প্রচলিত থাকায় সন্তান-সন্ততির পরিচিতি, সম্পত্তির মালিকানা এবং উত্তরাধিকার প্রথা
পিতার দিক থেকে নিণীর্ত হয়। উত্তরাধিকারসূত্রে বড় ছেলে সম্পত্তির মালিকানা
পেয়ে থাকলেও
পিতা ইচ্ছা করলে ছেলেদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা
করে দিতে পারেন। এতে বড়
ছেলে পায় সম্পত্তির অধের্ক, মেজো ছেলে সিকি ভাগ বা এক চতুর্থাংশ এবং অবশিষ্ট
সম্পত্তি অন্য ছেলেদের মধ্যে বন্টন করা হয়। কিন্তু ছেলে সন্তান না থাকলে সেই
ক্ষেত্রে মেয়েরাই সম্পত্তির মালিকানা ভাগ করে নেয়।
৭.ত্রিপুরা-
টিপরা বা ত্রিপুরা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।পরিবারে
পিতার স্থান উর্ধে হওয়ায় সাবির্ক বিষয়াদিতে তিনি খুব ক্ষমতাবান হয়ে থাকে।
পিতা থেকে তাহাদের গোষ্ঠী বা গোত্রের উত্পত্তি এদের সমাজব্যবস্থায় মেয়ে ও
স্ত্রীদের তেমনকোন আধিপত্য নেই। পরিবার পরিচালনা পদ্ধতিতে কতৃর্ত্বের ব্যাপারে
পিতার পরবতীর্তে মাতার স্থান। অতপর জেষ্ঠ্যপুত্রের স্থান হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে
একজন পুত্র তাহার পিতার দফা ও গোষ্ঠীর অধিকারী হয়। আর কন্যা তাহার মাতার দফা
ও গোষ্ঠীর অধিকারী সাব্যস্ত
হয়ে থাকে। তাহাদের উত্তরাধিকারিত্ব প্রসঙ্গে
মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা লিখিয়াছেন যে,"যে গোত্র ছেলেরা পিতার বংশ এবং মেয়েরা মাতার
বংশ অনুসরণ করে; ইহাতে ছেলেরা পায় পিতার সম্পত্তি, মেয়েরা পায় মাতার সম্পত্তি"।
৮.তঞ্চংঙ্গ্যা-
তঞ্চংঙ্গ্যা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
তঞ্চংঙ্গ্যা সমাজে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিম্নরূপ:
ক.
পিতার মৃত্যুর পর পুত্র সন্তানেরা উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তির সমান অংশ পায়।এখানে
সম্পত্তি বলতে জমিজমা, গৃহের আসবাবপত্র, গরু-মহিষ ইত্যাদিকে বুঝায়।
খ.
কন্যা সন্তানেরা পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা দাবী করিতে পারে না।তবে পিতার যদি কোন
পুত্র সন্তান না থাকে কেবল সেক্ষেত্রেই কন্যা সন্তানেরা পৈত্রিক সম্পত্তির মালিকানা
দাবী করতে পারে।
গ.মৃত
ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের পুত্র সন্তানেরা সম্পত্তির সমান অংশ পায়।
ঘ.মৃত
ব্যক্তির ঔরসজাত কোন পুত্র বা কন্যা সন্তান না থাকলে যদি তার পালিত পুত্র থাকে
সেক্ষেত্রে সেই পালিত পুত্রই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বলে বিবেচিত হয়। তবে তাকে
অবশ্যই মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর ভরনপোষণ করতে হয়; অন্যথায় মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী
সম্পত্তির সমান একাংশ পায়।
ঙ.
উম্মাদ অথবা সংসারত্যাগী অথবা পিতার
জীবিতাবস্থায় পৃথকান্নভূক্ত সন্তানেরা পিতার মৃত্যুর পর সম্পত্তির সমান অংশ পায়।
চ.
অবৈধ সন্তানেরা সম্পত্তির অংশীদার
হতে পারে না । তবে তারা যে ব্যক্তির ঔরসজাত সেই ব্যক্তির মৃত্যুর পর উহার
সম্পত্তির অংশ পেতে পারে।
ছ.পিতার
মৃত্যুর পূর্বে যদি কোন পুত্রের মৃত্যু হয় এবং সেই পুত্রের ঔরসজাত পুত্র সন্তানাদি
থাকে সেক্ষেত্রে পিতামহের মৃত্যুর পর দৌহিত্র সূত্রে তারা সম্পত্তির অংশ পায়।
জ.
যদি কোন বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীলোকের পুত্র সন্তান থাকে এবং সে অবস্থায় যদি
সে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করে, সেই পুত্র সন্তানেরা তাদের মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর
তত্ত্বাবধানে থাকলেও তারা(পুত্র সন্তানেরা) মায়ের পূর্ব স্বামীর মৃত্যুর পর
সম্পত্তির অংশ থকে বঞ্চিত হয় না।
ঝ.
যদি কোন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় তাঁর সম্পত্তির কোন অংশ অন্য কাকেও দানপত্র করে দিয়ে
যায় তত্ক্ষেত্রে দাতার মৃত্যুর আগে বা পরে দান গ্রহীতা ব্যক্তি সম্পত্তির মালিক হতে
পারে।
৯.রাখাইন-
রাখাইন সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।পিতাই
পরিবারের প্রধান বলিয়া পুরুষেরা পরিবারে কতৃর্ত্ব দেয়। মেয়েদেরকে
তারা অবহেলা করে
না; তাই তাদের মধ্যে মেয়েদের অধিকার পুরুষদের সমান। অর্থাত্ কোনও পরিবারে বাবা
কিংবা মা মারা গেলে তখন পুত্র ও কন্যারা সমান হারে সম্পত্তির অংশ ভাগ করে নেয়।
১০.খাসিয়া-
খাসিয়া পরিবার মাতৃপ্রধান। ফলে পরিবারে
মেয়েদের কতৃর্ত্ব ও প্রভাব যথেষ্ট। সন্তান-সন্ততিদের পরিচিতি, বংশ মর্যাদা ও
উত্তরাধিকারিত্ব প্রথা মায়ের গোত্রের দিক থেকে নিণীর্ত হয়। তাই মেয়েরা সম্পত্তির
মালিকানা পেয়ে থাকে। ভাতিজীকে বিয়ে করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।মামার জীবিত অবস্থায়
মামার মেয়েকে বিয়ে করা চলে না। কিন্তু মামার মৃত্যুর পরে মামার মেয়েকে বিয়ে করতে
আর কোন বাধা থাকে না ।মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় স্ত্রীর গৃহে স্বামীকে বসবাস
করিবার রীতি থাকিলেও অবশেষে সন্তান-সন্ততি
হওয়ার পর স্বামী স্ত্রীকে নিয়া নিজের
বাড়ীতে চলে যেতে পারে।যেহেতু খাসিয়াদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক,সেহেতু
মহিলারা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রচুর গহনা পাওয়ার সুযোগ
পেয়ে থাকে। যখন কোন পুরুষ
নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু অজর্ন করতে পারে তখন কেবল
তাতে তার মালিকানা
সাব্যস্ত হয়, নতুবা পুরুষ উত্তরাধিকার সূত্রে কোন কিছুর মালিকানা পায় না।
১১.মণিপুরী-
মণিপুরীদের পারিবারিক জীবনযাত্রা
পিতৃতান্ত্রিক। তাহাদের সমাজ কাঠামোতে পিতাই পরিবারের
সবের্সর্বা কর্তা হিসাবে গণ্য হয়। সন্তান-সন্ততির পরিচয়ও পিতার সূত্র ধরিয়া
উত্তরাধিকারীত্ব নিণীর্ত হয়। এদের পারিবারিক অবস্থায় ছেলেরা পিতার সম্পত্তির অংশ
সমানভাবে পায়; মেয়েরা পিতার সম্পত্তিতে কোনরূপ অধিকার পায় না।পিতা ইচ্ছা করিলে
সম্পত্তির কিছু অংশ মেয়েকে দান স্বরূপ দিতে পারেন। কোনও ছেলে না থাকলে সেই ক্ষেত্রে
মেয়েরা উক্ত সম্পত্তিতে সম্পূর্ণ অধিকারিণী হয়ে থাকে। যাদের পিতা মারা
গেছে
তাদের বেলায় বয়োজ্যোষ্ঠ ব্যক্তিটিই ঐ পরিবারের কর্তা বিবেচিত হয়। নিঃসন্তান কোন
দম্পতিদের মধ্যে স্বামী আগে মারা গেলে সেই ক্ষেত্রে বিধবা স্ত্রীই স্বামীর সম্পত্তি
জীবনস্বত্বে পুরোটা ভোগ
করে থাকে যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন পর্যন্ত; কিন্তু
করবার কোন অধিকার পায় না। অতঃপর বিধবা স্ত্রী মারা গেলে তখন ঐ সম্পত্তি উক্ত মৃত
ব্যক্তির ভাইয়েরা
পেয়ে থাকে।
১২.কুকি-
কুকিদের সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।তাই
পিতাই তাহাদের পরিবারের কর্তা হিসাবে গণ্য হয়। আর পিতার অবতর্মানে বয়োজ্যোষ্ঠ
ব্যক্তি অভিভাবক বলিয়া বিবেচিত হয়ে থাকে। তবে এই ব্যাপারে একটু ভিন্নতর রীতি চালু
রয়েছে যে, পিতৃপুত্রদের মধ্যে সকলের বড় ও ছোট ছেলেই সম্পত্তির স্বত্বাধিকারীত্ব
পায়; কিন্তু অন্যান্য ভাইগুলি তাহাদের করুণার পাত্র হিসাবে থাকা ছাড়া অন্য কোন উপায়
থাকে না।
১৩.লাউয়া-
লাউয়ারা পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার
ধারক। পিতার মৃত্যুর পর
তার সকল সম্পত্তির মালিক ছেলেরাই হইত। তখন মা ও মেয়েরা কোন অংশ
পাইত না; ছেলের অবতর্মানে পিতার ভাইয়েরা অধিকারী হত। বতর্মানে উত্তরাধিকারীত্বে
অনেক পরিবতর্ন
এসেছে। কাজেই এখন ছেলে, মেয়ে ও মা সকলেই সম্পত্তির অংশ পায়
আনুপাতিক হারে ইসলামী শরীয়তি বিধান মোতাবেক। সাধারণত পিতার মৃত্যুর পর সম্পত্তির
মধ্যে বড় ছেলে ঘর বা ডেরা বা নৌকার অধিকারী হয়।তদসঙ্গে তাহাকে নাবালক ও অবিবাহিত
ভাইবোনদের দেখাশোনার দায়িত্বও নিতে হয়।বড় ছেলের উপর অনেক সময় পিতার মৃত্যুর
পরবতীর্তে বিধবা মাকে পালন করাসহ সংসারের সাবির্ক দায়িত্ব অপির্ত হয়। কোন ব্যক্তির
ছেলেমেয়ে না থাকিলে তাহার মৃত্যুর পর সম্পত্তির মালিক হইবে তাহার ভাই এবং ভাইয়ের
ছেলেরা।সম্পত্তির মধ্যে ইসলামের বিধান অনুযায়ী
মাতা,ছেলেমেয়ে সকলের অধিকার
রয়েছে এতদহারে যে, বাবার মৃত্যুর পর মাতা দুই আনা এবং
ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুন অনুপাতে পিতার সম্পত্তি বন্টন করে নেয়।
বিয়ের পূর্বের
শতার্নুযায়ী অনেক সময় পিতার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির মধ্যে মাতা ও ছেলেমেয়েদের
মাঝে সমান অংশে বন্টিত হওয়ার অধিকার থাকে।
১৪.খুমি
খুমী সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পিতা হইলেন
পরিবারের প্রধান।পিতার মৃত্যুর পর বড় ছেলে সকল সম্পত্তির মালিক বিবেচিত হয়। ইহা
তাহাদের সামাজিক চিরাচরিত রীতি। খুমী সমাজে সমগোত্র বিবাহ সম্পাদন সম্পূর্ণরূপে
নিষিদ্ধ।খুমি সমাজে বুই বা অনুগত দাস প্রথা আছে।সাধারণত প্রধান বা বড়লোকদের বাড়িতেই
এই ধরণের বুই আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে।তারা প্রধানদের হুকুমে জীবন পর্যন্ত বিসর্জন
দিতে কুন্ঠিত হয় না। আবার কোনও প্রধান যদি অপুত্রক হয়,তবে মৃত্যুর আগে তাহার সমস্ত
সম্পত্তি বুইকে প্রদান করে থাকে।
১৫.হাজং
হাজংরা পিতৃতান্ত্রিক সমাজভূক্ত জাতি।হাজংরা
মাতৃপ্রধান সমাজের অন্তভূর্ক্ত নয়
বলে স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তিই ছেলেরা
সমান হারে পায়।মেয়েদের সম্পত্তিতে কোন ধরণের অধিকার নাই বলিলে চলে,তবে বিয়ের সময়
মেয়েদেরকে অনেক কিছু ঐচ্ছিক যৌতুকসরূপ দিতে হয়।
১৬.সাঁওতাল
সাঁওতাল সমাজে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা
প্রচলিত। পিতার মাধ্যমেই সন্তানের পরিচিতি ও উত্তরাধিকারীত্ব নিণীর্ত হয়। এই সমাজে
মায়ের চাইতে পিতার কতৃর্ত্ব অধিক হওয়ায় পুরুষেরাই সবর্তোভাবে সমাজের কতৃর্ত্ব গ্রহণ
করিয়া থাকে। সাঁওতালদের সমাজে পিতার সম্পত্তিতে পুত্রদের সমান উত্তরাধিকার থাকে
কিন্তু ঐ সম্পত্তিতে কন্যাদের কোন অধিকার নাই।সঙ্গত কারণে বিয়ের পরবতীর্তে স্বামীর
সম্পত্তির উপর তাহাদেরকে নির্ভর করিতে হয়। তবে সম্পত্তি বন্টনের সময় পিতা কন্যাকে
একটি করে গাভী প্রদান করে।কোনও পুত্রহীন ব্যক্তির সম্পত্তি তাহার সহোদর ভাইয়েরা
পেয়ে থাকে।
১৭.মুন্ডা
মুন্ডা সমাজে উত্তরাধিকারীত্ব নিণীর্ত হয়
পুরুষ বংশানুক্রমে।তাদের সমাজ রীতি অনুসারে পিতার মৃত্যুর পর শুধু ছেলেরাই সমস্ত
সম্পত্তির অধিকারী হয়। মেয়েরা কিছুই পায় না। কখনও কখনও মৃত্যুর পূর্বে পিতা ইচ্ছা
করে মেয়ে-জামাইকে কিছু দান স্বরুপ প্রদান করলে মেয়ে এবং জামাই উক্ত সম্পত্তির
অধিকারী হয়। বাবার সমস্ত সম্পত্তি পুত্রদের মধ্যে সমান হারে বন্টন করা হয়।তবে ঘরের
অধিকারী সাধারণত কনিষ্ঠ পুত্রই হইয়া থাকে। আবার পুত্রহীন ব্যক্তির সম্পত্তির অধিকার
তাহার ভাইদের উপর বর্তায়।
|