গ্রাম স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
জেলা পরিষদ

জেলা বোর্ড প্রথম স্থাপিত হয় ১৮৮৫ সালে৷ ১৯৫৯ সালে তাকে বলা হলো জেলা কাউন্সিল৷ বাংলাদেশে এই জেলা কাউন্সিলই হয় জেলা পরিষদ৷ এই জেলা পরিষদগুলো চালিত হওয়ার জন্যে এখন যে আইনটি বলবত্‍ আছে তা হলো ২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইন৷ এই আইনের বিধান অনুযায়ী যতো শীঘ্র সম্ভব প্রত্যেক জেলায় একটি করে জেলা পরিষদ স্থাপিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলার নামে তার নামকরণ হবে৷ এই জেলা পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে এবং এর স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে এর স্থাবর ও অস্থাবর সকল প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার এবং হস্তাস্তর করার ক্ষমতা থাকবে৷ জেলা পরিষদ এর নামে মামলা দায়ের করতে পারবে বা এর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাবে৷ জেলা পরিষদের মেয়াদ হবে তার প্রথম সভায় মিলিত হবার তারিখ হতে পাঁচ বছর৷ তবে উক্ত মেয়াদ শেষ হবার পরেও নির্বাচিত নতুন পরিষদ প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদ কার্য চালিয়ে যেতে পারবে৷


জেলা পরিষদের গঠন-প্রকৃতি
বর্তমান জেলা পরিষদে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্য৷ এরা নির্বাচিত হবেন পরোক্ষ ভোটে৷ জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী গঠিত হবে এক নির্বাচক মন্ডলী৷ প্রত্যেক জেলায়
অন্তর্ভুক্তর্পোরেশনের চেয়ারম্যন ও কমিশনারগণ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে হবে এই নির্বাচনমন্ডলী৷ একটি জেলায় মোটামুটিভাবে সোয়াশো সদস্যের নির্বাচকমন্ডলী হবে এবং তারা একুশ জনকে নির্বাচিত করে জেলা পরিষদ গঠন করবেন৷ আইন অনুযায়ী জেলার সংসদ সদস্যরা পরিষদের উপদেষ্টা হবেন৷ এক্ষেত্রে তাদের পরামর্শ দানের অধিকার থাকবে৷ তবে তাদের সুপারিশ কার্যকরী হবেই, এমন বিধি বিধান নেই৷ তবে প্রকৃত সত্য হলো, বাংলাদেশে আজো কোনো নির্বাচিত জেলা পরিষদ ক্ষমতা গ্রহণ করে নি৷ প্রশাসক বা মনোনীত ব্যক্তি জেলা পরিষদের দফতর অলংকার করেছেন৷

চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নির্বাচন করার যোগ্যতা
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচনে মনোনয়ন লাভ ও নির্বাচিত হওয়ার জন্যে
প্রার্থীর যেসব যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে তা এইরূপ: তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, পঁচিশ বছর বয়সী হতে হবে ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুতকৃত সে জেলার আপাতত: বলবত্‍ ভোটার তালিকায় তার নাম থাকতে হবে৷


চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের আপসারণ
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ নির্দিষ্ট কারণে অপসারণযোগ্য৷ কারণগুলো হলো: পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা, পরিষদ ও রাষ্ট্রের জন্যে ক্ষতিকর কার্যকলাপে জড়িত থাকা,
দুর্নীতি ও অসদাচারণজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, তার কৃত্য বা কর্তব্যকর্ম পালনে অস্বীকার করা বা অসমর্থ হওয়া, অসদাচারণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং পরিষদের অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি বা অপপ্রয়োগ করা৷


জেলা পরিষদের
কর্মকর্তা ও কর্মচারী
নির্ধারিত শর্তানুযায়ী সরকার প্রত্যেক পরিষদের জন্যে সরকারের উপসচিব মর্যাদার একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, একজন সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারেন এবং তারা এই আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন৷ পরিষদের
কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্যে পরিষদ প্রয়োজনবোধে নির্ধারিত শর্তানুযায়ী অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করতে পারেন৷

© 2005 All rights reserved D.NET Bangladesh