২০০৬ সালের মজুরি কাঠামোর সাথে সংশ্লিষ্ট আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

মজুরির জন্য নির্ধারিত কাজের ঘন্টা:

  • শ্রম আইন অনুযায়ী দৈনিক আট ঘন্টা কাজের জন্য এ মজুরি নির্ধারিত।
  • তবে একজন শ্রমিক অতিরিক্ত ভাতার বিনিময়ে দিনে ২ ঘন্টা করে ওভারটাইম কাজ করতে পারবেন।শ্রমিক রাজী থাকলেই কেবল ওভারটাইম ডিউটি করবেন, তাকে বাধ্য করা যাবে না।
  • ওভারটাইমসহ একজন শ্রমিকের সপ্তাহে মোট সর্বোচ্চ কর্মঘন্টা হবে ৬০ ঘন্টা। তবে বছরে গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৫৬ ঘন্টার বেশী হবে না। অর্থাত্‍ শ্রমিক বছরের সকল কমর্দিবসেই ওভারটাইম কাজ করবেন না বা করতে বাধ্য থাকবেন না।

  ওভারটাইম ভাতা:

ওভারটাইম কাজ করার জন্য মজুরি হবে মূল মজুরির(মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরি যদি থাকে তা সহ) সাধারণ হারের দ্বিগুন।সহজ হিসেবে এক ঘন্টা ওভারটাইম কাজের জন্য আপনি ২ ঘন্টার মজুরী পাবেন।সঠিকভাবে ওভারটাইম ভাতা পেতে  তার হিসেব জানা থাকা জরুরী।

ওভারটাইম নির্ধারণের পদ্ধতি:

মাসিক মূল মজুরী ÷ ২৬ কর্মদিবস = ১দিনের মজুরি

১ দিনের মজুরি ÷ ৮ = ১ ঘন্টার মজুরি * ২= প্রতিঘন্টা ওভারটাইম কাজের মজুরী।

উদাহরণ-

আপনি ৭ গ্রেডের একজন শ্রমিক।আপনার মাসিক মূল মজুরি ১১২৫ টাকা( বাড়ী ভাড়া ও চিকিত্‍সা ভাতা ছাড়া)।

সেক্ষেত্রে আপনার এক দিনের মজুরি হবে ১১২৫ ÷২৬=৪৩.২৫ টাকা।

প্রতিঘন্টার মজুরি ৪৩.২৫ ÷ ৮ =৫.৪০ টাকা।

প্রতিঘন্টার ওভারটাইম মজুরি ৫.৪০*২ =১০.৮০ টাকা।

শ্রমিকের ছুটি:

  • প্রত্যেক শ্রমিক পূর্ণ মজুরিতে সপ্তাহে ১দিন ছুটি এবং বছরে ১০ দিন নৈমিত্তক ছুটি, ১৪ দিন অসুস্থতা ছুটি ও ১১দিন উত্‍সব ছুটি ভোগ করবেন। এছাড়াও পূর্ববর্তী ১২ মাসে প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন করে অজির্ত ছুটি পাওয়ার অধিকারী হবেন।

মজুরি পরিশোধ:

  • মজুরিকাল শেষ হওয়ার পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যেই মজুরি ও ওভারটাইম ভাতা পরিশোধ করতে হবে।
  • মজুরিকাল হবে সর্বোচ্চ এক মাস।
  • সকল মজুরি কর্মদিবসে পরিশোধ করতে হবে।
  • প্রচলিত মুদ্রায়(টাকায়) নগদ অর্থে বা চেকের মাধ্যমে মজুরি পরিশোধ করতে হবে।

নির্ধারিত মজুরি না পেলে ও বে-আইনীভাবে মজুরি কাটা হলে করণীয়:

  • নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন না করলে মালিক বরাবর লিখিতভাবে অবগত করে তা বাস্তবায়নের দাবী জানাতে হবে।তাতে কাজ না হলে আপনি শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন।তবে এ ধরনের মামলা ঘটনার ছয়মাসের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
  • শ্রম আইন ২০০৬ এর বিধান খেলাপ করে আপনার মজুরি কাটা হলে বা কম দিলে বা মজুরি পরিশোধে দেরী হলে আপনাকে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।তবে এক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার আগে মালিক বরাবর লিখিত চিঠিতে মজুরি দাবী করতে হবে।এ ধরনের মামলা ১ বছরের( বারো মাসের) মধ্যে দায়ের করতে হবে।অাদালতকে সন্তুষ্ট করে বারো মাসের পরেও মামলা দায়ের করা যায়,বারো মাসের মধ্যেই মামলা দায়ের করা নিরাপদ।
  • মালিকের কাছে মজুরি দাবি করার প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।
  • আপনি সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিদর্শকের নিকট এ বিষয়ে আবেদন করতে পারেন।পরিদর্শকের কাছে আবেদন করে প্রতিকার না পেলে আদালতে যেতে হবে। কোন কারণে আদালতে যাওয়ার ক্ষেত্রে উপরে উল্লিখিত নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে আপনার দাবী গ্রহণযোগ্য হবেনা।
  • এ ছাড়াও আপনি নিজে মজুরি আদায়ে ব্যর্থ হলে আপনার ইউনিয়ন/ফেডারেশনকে জানাতে পারেন।ইউনিয়ন মজুরি আদায়ের সহযোগিতা করতে পারে।

নিম্নতম মজুরির গেজেটে যে সব সুপারিশ করা হয়েছে:

  • অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার বিবেচনায় গ্রেড নির্ধারণ করা হবে।
  • মজুরি পরিশোধের আগে গ্রেড অনুযায়ী তা রেজিষ্টারভূক্ত করে মজুরি স্লিপ দিতে হবে।
  • ঠিকাদার কতৃর্ক নিযুক্ত কণ্ট্রাক্ট শ্রমিকরাও "শ্রমিক" বলে গণ্য হবেন এবং ঠিকাদাররা মালিকের ন্যায় একই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী ঠিকাদার মজুরি পরিশোধ না করলে মালিক নিজে তা প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন।যা মালিক ঠিকাদারের কাছ থেকে সমন্বয় করবেন।ইতোমধ্যে উল্লিখিত নিম্নতম মজুরির বেশী প্রদান করা হয়ে থাকলে তা কমানো যাবে না।
  • মালিক পক্ষ ইচ্ছা করলে কোন শ্রমিককে অধিক হারে মজুরি এবং অন্যান্য ভাতা প্রদান করতে পারবেন।
  • পিসরেট ভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রেও এমন রেট নির্ধারণ করতে হবে যাতে তাদের মাসিক মজুরি নূন্যতম মজুরির কম না হয়।
  • নিম্নতম মজুরি ছাড়া শ্রম আইন ২০০৬ এ শ্রমিকের অন্য যে সব সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে তা বলবত্‍ থাকবে।

তথ্যসূত্র:

  • বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস
  • উন্নয়ন অন্বেষণ এর 'কর্মজীবন ও সামাজিক নিরাপত্তা' ইউনিট এবং বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস এর যৌথ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদন



 

© 2005 All rights reserved D.NET Bangladesh