|
থানায় এজাহার দায়েরের মাধ্যমে মামলা
বা জি. আর মামলা
এই ধরনের মামলা
সাধারনত থানায় জি.ডি দায়ের বা এজাহার দায়েরের মাধ্যমে শুরু হয়।
জি.ডি.
বা সাধারণ ডায়েরী কখন করা হয়
আপনাকে যদি
-
কোনো ব্যক্তি বা শত্রু
পক্ষের কোনো লোক জীবননাশের হুমকি দিয়ে থাকে অথবা
-
মিথ্যা
মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে থাকে অথবা
-
শত্রু
পক্ষের লোক আপনার কোনো ফসল, গবাদি পশু
বা অন্য যেকোনো প্রকার ক্ষতি করবে বলে
হুমকি দিয়ে থাকে অথবা
-
আপনি
কোনো ভবিষ্যত বিপদ বা অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে আশংকা
করে থাকেন
তাহলে
দেরী না করে সাথে
সাথে আপনার নিকটবর্তী থানায় গিয়ে জি.ডি বা সাধারন ডায়েরী করুন।
জি.ডি.
বা সাধারণ ডায়েরী কোথায় করবেন
জি.ডি বা
সাধারন ডায়েরী যে স্থানে ঘটনা ঘটে সে স্থানের নিকটবর্তী থানায় দায়ের করতে হয়। ঘটনাস্থলের
নিকটবর্তী থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসার বা দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার নিকট ঘটনার
কথা বর্ননা করে উক্ত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল
করতে হবে।
জি.ডি. সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে
ক্লিক করুন
যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে এবং
আপনি
যদি উক্ত ফৌজদারী অপরাধ
সংঘটিত হবার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকেন তাহলে সংঘটিত অপরাধটির জন্য প্রতিকার পাবার
আশায় সত্যিকার অপরাধী তথা আসামীদের শাস্তির জন্য অথবা কোনো ফৌজদারী অপরাধ
দমনের জন্য
আপনাকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ
গুলি অনুসরণ করতে হবে:
থানায়
মামলা বা এজাহার
কিভাবে করবেন
যদি কেনো অপরাধ
সংঘটিত হয়ে থাকে এবং সংঘটিত
অপরাধটির ফলে আপনার
কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতি সাধিত হয়ে
থাকে সেক্ষেত্রে তার পক্ষে
আপনি ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী
থানায় গিয়ে অপরাধীকে সনাক্ত করার জন্য
অপরাধী
সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য
যেমন:
প্রদান করে অপরাধীর বিরুদ্ধে
সরকার কতৃর্ক নির্ধারিত প্রাথমিক তথ্য বিবরণী ফরমে
মামলা বা এজাহার দায়ের করতে পারেন
যা জি.আর কেইস নামে পরিচিত।
থানায় এজাহার দায়ের করার পর পুলিশ কর্মকর্তা তার কার্যক্রম শুরু করবেন।
|
তবে থানায় গিয়ে কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা দাখিল করার
সময় পুলিশ কর্মকর্তার নিকট
আপনাকে কোনো
শপথ পাঠ
করতে হবে না |
এজাহার সম্পর্কে
বিস্তারিত জানার জন্য ক্লিক করুন
তদন্ত:
মামলা
বা এজাহার দায়েরের সংগে সংগে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্র্র্তা (ও.সি.) নিজে অথবা অন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা
(দারোগা) সংশ্লিষ্ট অপরাধটির জন্য তদন্ত শুরু করে
থাকেন।
তদন্ত চলাকালীন অভিযোগকারী বা সাক্ষীগণের করণীয় কি
কোনো মামলার তদন্তের জন্য তদন্তকারী
পুলিশ কর্মকর্তা (দারোগা)
অভিযোগকারী কিংবা সাক্ষীগণের নিকট উপস্থিত হলে
কখন জামিন নিতে হবে
আপনি যদি কোনো মামলায় আসামী হয়ে
থাকেন তাহলে সংশ্লিষ্ট
এখতিয়ারাধীন আদালত হতে
জামিন নেওয়ার পর আসামীকে কি করতে হবে
-
আসামীকে প্রত্যেক ধার্য তারিখে
সংশ্লিষ্ট আদালতে নিয়মিত হাজির হতে হবে।
-
ধার্য তারিখে সংশ্লিষ্ট আদালতে
হাজির হতে ব্যর্থ হলে নিযুক্ত উকিলের মাধ্যমে সময়ের জন্য (কি কারনে আদালতে আসতে
পারেননি তা উল্লেখ পূর্বক)আবেদন দাখিল করতে হবে।
কখন
বদলি
জামিন নিতে হবে
-
ইতোমধ্যে মামলাটি যদি
অন্য কোনো আদালতে বদলি হয়ে থাকে অথবা
-
ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকের
কর্মস্থলে নতুন
ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারক যোগদান
করলে সেক্ষেত্রে আসামীকে
পুনরায় জামিন নিতে হবে যা বদলি জামিন
নামে পরিচিত।
চার্জশীট
দাখিল
পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত শেষে একটি চার্জশীট বা অভিযোগ পত্র দাখিল করবেন।
চূড়ান্ত
প্রতিবেদনে বা ফাইনাল রিপোর্টে যদি আপনি সন্তুষ্ট না হন তবে
উক্ত চূড়ান্তপত্রটি বাতিল
করার জন্য সংশ্লিষ্ট
আদালতে দরখাস্ত দাখিল করতে হবে, যা নারাজি আবেদন বলে
পরিচিত।
চার্জ
শুনানীর সময় যা করতে হবে
-
সংশ্লিষ্ট মামলার
আসামীগনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের জন্য চার্জ শুনানির দিন ধার্য হবে।
-
চার্জ
শুনানীর তারিখে অভিযোগকারীকে আসামীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা তুলে
ধরতে হবে।
-
চার্জ
শুনানীর তারিখে আসামী পক্ষকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগকৃত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের
কথা খন্ডন করতে হবে।
কখন
চার্জ
গঠন হয়
পুলিশ কর্মকর্তা চার্জশীট বা অভিযোগ পত্রটি দাখিল করার পর
-
চার্জ
শুনানীর জন্য
সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট/
বিচারক একটি তারিখ
ধার্য করবেন।
-
চার্জ শুনানী শেষে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে
তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ম্যজিস্ট্রেট/
বিচারক চার্জ গঠন করবেন এবং
-
যাদের
বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নাই তাদেরকে উক্ত মামলা হতে অব্যাহতি প্রদান
করবেন, যা
প্রচলিত ভাষায় ডিসচার্জ নামে পরিচিত।
কখন
আসামী
পরীক্ষা ও আসামীকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়া হয়
-
কোনো মামলার
আসামীকে পরীক্ষা করার
জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারন করবেন।
-
আপনি যদি
আসামী
হয়ে থাকেন তাহলে মামলার বাদী আপনাকে সনাক্ত করবেন যে আপনি ঐ মামলার সাথে জড়িত
ছিলেন।
-
যদি
আপনাকে উক্ত মামলার সাথে সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে জড়িত করা হয় তাহলে বলবেন
যে আপনি উক্ত মামলার ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
জবানবন্দী
ও জেরার জন্য কখন আদালতে আসতে হবে
আপনি যদি কোনো
মামলার সাক্ষী হয়ে থাকেন তাহলে মামলাটি যে আদালতে বিচারাধীন আছে সেই আদালতের
সংশ্লিষ্ট বিচারক
-
আপনার নামে সমন নোটিশ দিবেন
উক্ত সমন নোটিশ পাবার পর আপনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার
ঘটনা সম্পর্কে বর্ননা করবেন তথা জবানবন্দী দিবেন।
-
আসামী
পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী ইচ্ছা করলে সেই দিনই আপনাকে জেরা করতে পারেন।
-
যদি সেদিন জেরা না করেন তাহলে
জেরা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করে
দিবেন এবং জেরার জন্য
নির্ধারিত তারিখে জেরা হবে।
-
আসামী
পক্ষের আইনজীবী ইচ্ছা করলে মামলার বিষয় বস্তু প্রমাণের স্বার্থে আবেদনের
প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর পুনরায় বাদী পক্ষের আবেদনে আপনাকে পুনঃজেরা করতে
পারবেন।
|
উপরোক্ত ধাপগুলির জন্য আপনাকে অবশ্যই
মামলার ধার্য তারিখে উপস্থিত হয়ে মামলা সম্পর্কে
সাক্ষ্য/ জেরার উত্তর দিতে হবে, যদি আপনি সাক্ষ্য দিতে
উপস্থিত না হন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট/গ্রেফতারী
পরোয়ানা জারী হতে পারে। |
যুক্তিতর্ক
বা আরগুমেন্ট
-
মামলার বিচারের শেষ পর্যায়ে
এসে বাদী তথা মামলার অভিযোগকারী এবং
আসামী পক্ষের আইনজীবীগণ উক্ত মামলার সাথে কথিত আসামী/
আসামীগণের জড়িত থাকা বা না থাকার ব্যাপারে যে বক্তব্য পেশ করে তাকেই আইনের
ভাষায় যুক্তিতর্ক
বা আরগুমেন্ট বলে।
-
আপনি মামলার বাদী, অভিযোগকারী
বা আসামী যাই হোন না কেন আপনাকে যুক্তিতর্ক বা আরগুমেন্ট এর দিন আদালতে
উপস্থিত থাকতে হবে।
-
তবে কোনো কারণে
যদি আপনি উক্ত তারিখে উপস্থিত না থাকতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে অনুপস্থিতির কারন
উল্লেখপূর্বক সময়ের জন্য আবেদন জানাতে হবে।
রায়
প্রদানের তারিখ
যুক্তিতর্ক শোনার পর সংশ্লিষ্ট
মামলার বিচারক রায় প্রদানের জন্য একটি তারিখ নির্ধারন করে দিবেন এবং রায় প্রদানের
তারিখে সংশ্লিষ্ট মামলাটির রায় প্রদান করবেন।
খালাস
অথবা শাস্তি:
রায় প্রদানের দিন বিচারক
মামলাটির সাথে সংশ্লিষ্ট আসামী যদি জড়িত না থাকে তাহলে বিচারক তাকে খালাস প্রদান
করবেন এবং জড়িত থাকলে শাস্তি প্রদান করবেন।
রায় প্রদানের পর পরবর্তী পদক্ষেপ বা আপীল
যদি কোনো মামলা
নিষ্পত্তির জন্য কোনো দন্ডাদেশ বা রায় প্রদান করা হয় এবং আপনার যদি উক্ত রায় বা
দন্ডাদেশ পছন্দ না হয় তবে সেক্ষেত্রে আপনি উক্ত রায় বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে
আপীল করতে পারবেন। আপনি যে সমস্ত আদালতে আপীল করতে পারবেন সেগুলো নিম্নরূপ:
দ্বিতীয়
বা তৃতীয়
শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এর দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে যেখানে আপিল করতে হবে
-
যদি
আপনার মামলা নিষ্পত্তির জন্য দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কোনো
দন্ডাদেশ বা রায় প্রদান করেন এবং
-
আপনি যদি মনে করেন
উক্ত রায় অন্যায়ভাবে প্রদান করা হয়েছে কিংবা
-
উক্ত
দন্ডাদেশ যথার্ত নয়
-
তাহলে উক্ত রায়ের
বিরুদ্ধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
-
যদি
কোন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর
ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন তাহলে
সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকটও আপিল দায়ের করা যাবে।
দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
যদি কোনো আসামীকে খালাস প্রদান করে সেক্ষেত্রে মামলাকারী বা অভিযোগকারী যেখানে আপিল দায়ের করবেন
১ম
শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী
দায়রা জজের দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে
যেখানে
আপিল করতে হবে
১ম
শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী
দায়রা জজ যদি কোনো মামলায় কোনো আসামীকে খালাস প্রদান করে
সেক্ষেত্রে মামলাকারী বা অভিযোগকারী যেখানে আপিল দায়ের করবেন
দায়রা জজের দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে
যেখানে আপিল করতে হবে
দায়রা জজের মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে
যেখানে
আপিল করতে হবে
- মৃত্যুদন্ডাদেশ দেবার তারিখ হতে ৭ দিনের মধ্যে
সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে।
দায়রা জজ যদি কোনো মামলায় কোনো আসামীকে
খালাস প্রদান করে
সেক্ষেত্রে মামলাকারী বা অভিযোগকারী যেখানে আপিল দায়ের করবেন
- খালাস প্রদানের তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে সরাসরি
হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে।
আপনি যদি জেলখানা
বা কারাগারে থাকা অবস্থায় কোনো মামলায় আপনার বিরুদ্ধে কোনো দন্ডের আদেশ হয় বা
রায় হয় তাহলে
যেখানে আপিলের জন্য
আবেদন করবেন
-
আপিলের জন্য মূল দরখাস্ত ও
কাগজপত্র এবং আপিলের নকল কপি তথা দরখাস্তের ফটোকপি সহ জেলখানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তার নিকট দাখিল করতে হবে।
-
জেলখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার
নিকট আপিলের দরখাস্ত দাখিল করলে উক্ত অফিসার আপনার আপিলের দরখাস্ত যথাযথভাবে
উপযুক্ত আপিল আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ।
হাইকোর্ট হতে
কোনো মামলার রায়ে অসন্তুস্ট হলে
যেখানে যেতে হবে
|