|
সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের বা সি. আর মামলা বা নালিশী মামলা
কিছু অপরাধের
ক্ষেত্রে মামলা সরাসরি ফৌজদারী আদালতে দায়ের করতে হয়।
কোন
কোন ক্ষেত্রে সরাসরি ফৌজদারী আদালতে মামলা দায়ের
করতে হবে
-
যদি আপনি অনুমান করেন যে সংঘটিত অপরাধটির প্রতিকারের জন্য থানায় গিয়ে অপরাধীর
বিরূদ্ধে মামলা করতে গেলে থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও.সি.) মামলা গ্রহন করবেন না।
-
যেক্ষেত্রে
মামলার প্রকৃতিই এমন যে সরাসরি ফৌজদারী আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে, যেমন:
শুধুমাত্র যৌতুক দাবী করলে তা সরাসরি ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা
দায়ের করতে হবে।
-
সেক্ষেত্রে
আপনি যত দ্রুত সম্ভব ঘটনাস্থলের
নিকটবর্তী এখতিয়ারাধীন ফৌজদারী আদালতে ( ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে / জেলা জজ
আদালতে/ বিশেষ কোনো অপরাধের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যূনালে ) মামলা দায়ের করতে হবে। সরাসরি ফৌজদারা
আদালতে গিয়ে অপরাধীর
বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে তাকে নালিশী মামলা বা সি. আর কেইস
বলে।
|
তবে কোনো ব্যক্তি যখন ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী এখতিয়ারাধীন ফৌজদারী আদালতে (ম্যাজিস্ট্রেট
আদালতে/জেলা জজ
আদালতে/ বিশেষ কোনো অপরাধের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালে
) গিয়ে কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে নালিশী মামলা দাখিল করে থাকেন সেক্ষেত্রে
এজাহারকারীকে ফৌজদারী আদালতের সামনে তথা ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ সাহেবের নিকট শপথ করতে
হবে। |
অনুসন্ধান বা তদন্ত
যদি কোনো
ফৌজদারী আদালতের বিচারক মনে করেন যে আপনার
দায়েরকৃত নালিশী মামলাটির
ঘটনার বিষয়ে কোনো অনুসন্ধানের বা তদন্তের প্রয়োজন তাহলে
-
তিনি নিজে
অথবা তার অধীনস্ত কোনো
ম্যজিস্ট্রেট দ্বারা অনুসন্ধান
করাবেন অথবা
-
কোনো পুলিশ অফিসারের উপর
তদন্ত ভার দিয়ে তদন্ত করাবেন অথবা
-
তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করবেন
তার দ্বারা অনুসন্ধান করাবেন
তদন্তকারী কর্মকর্তা কিংবা অনুসন্ধানকারী
কর্মকর্তার রিপোট (র্প্রতিবেদন) এ আপনি যদি সন্তুষ্ট না হন তবে
প্রতিবেদন টি বাতিল করে অন্য কোনো তদন্তকারী বা
অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার উপর তদন্ত/অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট
আদালতে দরখাস্ত দাখিল করতে পারেন, এ প্রকার আবেদন নারাজি আবেদন বলে
পরিচিত।
মামলা খারিজ
যদি কোনো ফৌজদারী আদালতের
ম্যাজিস্ট্রেট/
বিচারক
মনে করেন যে, আপনার দায়েরকৃত নালিশী মামলাটির
ঘটনার ব্যাপারে তদন্তের বা
অনুসন্ধানের পর ফলাফল বিবেচনা করে অগ্রসর হওয়ার মতো কোনো কারণ
নাই তাহলে
সেক্ষেত্রে নালিশী মামলাটি খারিজ করে দিতে পারবেন।
তবে সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট/বিচারককে
নালিশী মামলাটি খারিজ করার কারণটি
অবশ্যই মামলার নথি/রেকর্ডে লিখতে হবে।
মামলাকারীর
অনুপস্থিতির ফলে যদি মামলা খারিজ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে কি করবেন
আপনি যদি কোনো আদালতে মামলা করে থাকেন এবং
মামলাটির শুনানীর জন্য নির্ধারিত তারিখে আপনার অনুপস্থিতির ফলে যদি মামলাটি খারিজ
হয়ে থাকে তাহলে
- মামলার তারিখে আপনার অনুপস্থিতির কারণ উল্লেখ করে
সংশ্লিষ্ট আদালতকে সন্তুষ্ট করার জন্য এবং
- মামলাটি পুনরায় চালু করার জন্য এবটি দরখাস্ত
দাখিল করতে হবে।
কখন
সমন
জারী করা হয়
তদন্তকারী
কর্মকর্তা বা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা
আদালতে প্রতিবেদন
দাখিলের পর
-
যদি
সংশ্লিষ্ট বিচারক (ম্যজিস্ট্রেট/ জেলা জজ/ বিশেষ ট্রাইবু্যনালের বিচারক )
মনে
করেন আপনার
দায়েরকৃত ফৌজদারী মামলাটির ঘটনার বিষয় সত্য
-
তাহলে তিনি অপরাধীকে
আদালতের সামনে
হাজির হওয়ার জন্য অপরাধীর নামে তার
ঠিকানা অনুযায়ী সরাসরি সমন
পাঠিয়ে দিবেন।
কখন গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয়
কখন জামিন নিতে হবে
আপনি যদি কোনো মামলায় আসামী হয়ে
থাকেন তাহলে
- সংশ্লিষ্ট
এখতিয়ারাধীন আদালত হতে আপনার নামে সমন পাবার পর নির্দিষ্ট তারিখে
বা তারিখের পূর্বে আদালতে উপস্থিত হয়ে
আত্মসমর্পন পূর্বক
জামিন নিতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট
এখতিয়ারাধীন আদালত হতে
আপনার নামে ওয়ারেন্ট জারী হবার
পর নির্দিষ্ট তারিখে বা তারিখের পূর্বে আদালতে উপস্থিত হয়ে
আত্মসমর্পন পূর্বক
জামিন নিতে হবে।
- আপনি
যদি কোনো মামলার জন্য গ্রেফতার হয়ে থাকেন তাহলে গ্রেফতারের পর সংশ্লিষ্ট আদালত
হতে জামিন নিতে হবে।
কখন
বদলি
জামিন নিতে হবে
চার্জ
শুনানীর সময় যা করতে হবে
-
সংশ্লিষ্ট মামলার
আসামীগনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের জন্য চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য হবে।
-
চার্জ
শুনানীর তারিখে অভিযোগকারীকে আসামীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা তুলে
ধরতে হবে।
-
চার্জ
শুনানীর তারিখে আসামী পক্ষকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগকৃত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের
কথা খন্ডন করতে হবে।
কখন
চার্জ
গঠন করা হবে
পুলিশ কর্মকর্তা চার্জশীট বা অভিযোগ পত্রটি দাখিল করার পর
-
চার্জ
শুনানীর জন্য
সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট/
বিচারক একটি তারিখ
ধার্য করবেন।
-
চার্জ শুনানী শেষে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে
তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ম্যজিস্ট্রেট/
বিচারক চার্জ গঠন করবেন এবং
-
যাদের বিরুদ্ধে কোনো
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নাই তাদেরকে উক্ত মামলা হতে অব্যাহতি প্রদান করবেন, যাকে
প্রচলিত ভাষায় ডিসচার্জ বলে।
কখন
আসামী
পরীক্ষা ও আসামীকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়া হয়
-
কোনো মামলার আসামীকে পরীক্ষা করার
জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারন করবেন।
-
আপনি যদি আসামী
হয়ে থাকেন তাহলে মামলার বাদী আপনাকে সনাক্ত করবেন যে আপনি ঐ মামলার সাথে জড়িত
ছিলেন।
-
যদি
আপনাকে উক্ত মামলার সাথে সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে জড়িত করা হয় তাহলে বলবেন
যে আপনি উক্ত মামলার ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
জবানবন্দী
ও জেরার জন্য কখন আদালতে আসতে হবে
আপনি যদি কোনো
মামলার সাক্ষী হয়ে থাকেন তাহলে মামলাটি যে আদালতে বিচারাধীন
আছে সেই আদালতের
সংশ্লিষ্ট বিচারক
-
আপনার নামে সমন নোটিশ দিবেন
উক্ত সমন নোটিশ পাবার পর
আপনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার
ঘটনা সম্পর্কে বর্ননা করবেন তথা জবানবন্দী দিবেন।
-
আসামী
পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী ইচ্ছা করলে সেই দিনই
আপনাকে জেরা করতে পারবেন।
-
যদি সেদিন জেরা না করেন তাহলে
জেরা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করে
দিবেন এবং জেরার জন্য
নির্ধারিত তারিখে জেরা হবে।
-
আসামী
পক্ষের আইনজীবী ইচ্ছা করলে মামলার বিষয় বস্তু প্রমাণের স্বার্থে আবেদনের
প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর পুনরায় বাদী পক্ষের আপনাকে পুনঃজেরা করতে
পারবেন।
|
উপরোক্ত ধাপগুলির জন্য আপনাকে অবশ্যই
মামলার ধার্য তারিখে উপস্থিত হয়ে মামলা সম্পর্কে
সাক্ষ্য/ জেরার উত্তর দিতে হবে, যদি আপনি সাক্ষ্য দিতে
উপস্থিত না হন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট/গ্রেফতারী
পরোয়ানা জারী হতে পারে। |
যুক্তিতর্ক
বা আরগুমেন্ট
-
মামলার
বিচারের শেষ পর্যায়ে এসে বাদী
তথা মামলার অভিযোগকারী
এবং আসামী পক্ষের আইনজীবীগণ
উক্ত মামলার সাথে কথিত আসামী/ আসামীগণের জড়িত থাকা বা না থাকার ব্যাপারে যে
বক্তব্য পেশ করে তাকেই আইনের ভাষায় যুক্তিতর্ক
বা আরগুমেন্ট বলে।
-
আপনি মামলার বাদী, অভিযোগকারী
বা আসামী যাই হোন না কেন আপনাকে যুক্তিতর্ক বা আরগুমেন্ট এর দিন আদালতে উপস্থিত
থাকতে হবে।
-
তবে কোনো কারণে যদি আপনি উক্ত
তারিখে উপস্থিত না থাকতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে অনুপস্থিতির কারন উল্লেখপূর্বক
সময়ের জন্য আবেদন জানাতে হবে।
রায়
প্রদানের তারিখ
যুক্তিতর্ক শোনার পর সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারক রায় প্রদানের জন্য একটি তারিখ
নির্ধারন করে দিবেন এবং রায় প্রদানের তারিখে সংশ্লিষ্ট মামলাটির রায় প্রদান করবেন।
খালাস
অথবা শাস্তি
মামলাটির সাথে সংশ্লিষ্ট আসামী যদি জড়িত না থাকে তাহলে তাকে খালাস প্রদান করবেন এবং
জড়িত থাকলে শাস্তি প্রদান করবেন।
রায় প্রদানের পর পরবর্তী পদক্ষেপ বা আপীল
যদি কোনো মামলা
নিষ্পত্তির জন্য কোনো দন্ডাদেশ বা রায় প্রদান করা হয় এবং আপনার যদি উক্ত রায় বা
দন্ডাদেশ পছন্দ না হয় তবে সেক্ষেত্রে আপনি উক্ত রায় বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে
আপীল করতে পারবেন। আপনি যে সমস্ত আদালতে আপীল করতে পারবেন সেগুলো নিম্নরূপ:
দ্বিতীয়
বা তৃতীয়
শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এর
দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে যেখানে আপিল করতে হবে
-
যদি
আপনার মামলা নিষ্পত্তির জন্য দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কোনো
দন্ডাদেশ বা রায় প্রদান করেন এবং
-
আপনি যদি মনে করেন
উক্ত রায় অন্যায়ভাবে প্রদান করা হয়েছে কিংবা
-
উক্ত
দন্ডাদেশ যথার্ত নয়
-
তাহলে উক্ত রায়ের
বিরুদ্ধে আপনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
-
যদি
কোন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর
ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন তাহলে
সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকটও আপিল দায়ের করা যাবে।
দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
যদি কোনো আসামীকে খালাস প্রদান করে সেক্ষেত্রে মামলাকারী বা অভিযোগকারী যেখানে
আপিল দায়ের করবেন
১ম
শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী
দায়রা জজের দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে
যেখানে আপিল করতে হবে
১ম
শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী
দায়রা জজ যদি কোনো মামলায় কোনো আসামীকে খালাস প্রদান করে
সেক্ষেত্রে মামলাকারী বা অভিযোগকারী যেখানে আপিল দায়ের করবেন
দায়রা জজের দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে
যেখানে
আপিল করতে হবে
দায়রা জজের মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে
যেখানে আপিল করতে হবে
দায়রা জজ যদি কোনো মামলায় কোনো আসামীকে
খালাস প্রদান করে
সেক্ষেত্রে মামলাকারী বা অভিযোগকারী যেখানে আপিল দায়ের করবেন
হাইকোর্ট হতে
কোনো মামলার রায়ে অসন্তুস্ট হলে
যেখানে যেতে হবে
|
আপনি যদি জেলখানা
বা কারাগারে থাকা অবস্থায় কোনো মামলায় আপনার বিরুদ্ধে কোনো দন্ডের আদেশ হয় বা
রায় হয় তাহলে কিভাবে আপিলের জন্য আবেদন করবেন
-
আপিলের জন্য মূল দরখাস্ত ও
কাগজপত্র এবং আপিলের নকল কপি তথা দরখাস্তের ফটোকপি সহ জেলখানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তার নিকট দাখিল করতে হবে।
-
জেলখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার
নিকট আপিলের দরখাস্ত দাখিল করলে উক্ত অফিসার আপনার আপিলের দরখাস্ত যথাযথভাবে
উপযুক্ত আপিল আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ।
|
|